
এক যুবককে মাদকসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ময়লা ফারুকের ভাই জহিরুল ইসলাম জহির ও কিশোর গ্যাং লিডার জুয়েল শেখের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি, গালাগালি ও সংবাদ প্রকাশ বন্ধের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে এক যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন, টাকা দাবি এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি ফাহিম খান নামে এক যুবককে ৫ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান শুরু করেন এই প্রতিবেদক। অনুসন্ধানে ফাহিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
ফাহিমের ভাইয়ের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম জহির, আবু সাইদ ও জুয়েল শেখসহ কয়েকজন তাকে আটকের পর পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে এবং পরে জহিরের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্যামেরার সামনে জোরপূর্বক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফাহিমের ভাই আরও অভিযোগ করেন, তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দেওয়া হলে ফাহিমকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় ফাহিমকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক ফাহিমের সঙ্গে কথা বলেও তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ফাহিম ও যুবদল নেতা আলিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে জহিরুল ইসলাম জহির ও জুয়েল শেখ এই প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ ও লেখালেখি বন্ধ করতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কথামতো অনুসন্ধান ও লেখালেখি বন্ধ না করলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জুয়েল শেখ ও তার পিতা আব্বাস আলী শেখের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জুয়েল শেখের কাছে একটি সিলভার রঙের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। জুয়েল শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় ইতোমধ্যে সাধারণ ডায়েরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের কারণে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জহিরুল ইসলাম জহির ও জুয়েল শেখের কাছে জানতে চাইলে যা করতে পারিস কর তোরে দেখে নিবো, তোরে সামনে পাইলে শেষ করে ফেলবো বলে প্রতিবেদক কে হুমকি প্রদান করা হয়।