
লিয়ার লাকড়ির মাঠ এলাকায় এক দিনমজুরকে আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি দেখানো, পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক আপস-মীমাংসায় বাধ্য করা এবং উৎকোচ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হৃদয় নামের এক দিনমজুরকে ২ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন এসআই আব্দুল কুদ্দুস। স্থানীয় বাসিন্দা ও পেশায় নৈশপ্রহরী আবুল কালাম কাজী জানান, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তিনি হৃদয়কে এলাকায় বাসা ভাড়া নিতে সহযোগিতা করেছিলেন। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন যেন হৃদয়কে এবারের মতো ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনুরোধের পর এসআই আব্দুল কুদ্দুস হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে জেলে পাঠানোর পাশাপাশি আবুল কালাম কাজীকেও গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়।
নিরুপায় হয়ে ধারদেনা করে প্রথমে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করেন আবুল কালাম কাজী। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সেই টাকা নিয়েও হৃদয়কে ছাড়া হয়নি। পরে হৃদয়কে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। এরপর আরও ৫ হাজার টাকা জোগাড় করে মোট ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম জানান, বাকি ৫ হাজার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এসআই আব্দুল কুদ্দুস। সময় চাইলে আবুল কালাম কাজীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় বা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে এনে জোরপূর্বক আপস-মীমাংসা করানো হয়। এমনকি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বাদীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও দাবি করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা বিচার চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু উল্টো আমাদেরই চাপ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে নিতে। পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয়।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যাদের কাছে মানুষ বিচার চাইতে যায়, যদি তারাই টাকার বিনিময়ে পক্ষ নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বের অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ বা অবৈধভাবে আপস-মীমাংসা করালে তা ফৌজদারি অপরাধের পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি, এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতায় তদন্ত ও মামলা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশি হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।