
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২২ আগস্ট সাংবাদিক নাজমুল হুদা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাব্বির আহমেদ ওরফে সাইকো সাব্বির (২৬), জাহিন সিংহ (২৮), রেদোয়ান হাসান (২৫) এবং সাদ্দাম হোসেন ওরফে টাকলা সাদ্দাম (৪০)-কে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯ আগস্ট নাজমুল হুদার কাছে ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, তার ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদ এবং সাংবাদিক নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০ আগস্ট রাতে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে সাভার মডেল মসজিদের সামনে নাজমুল হুদার গাড়ির গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা, সঙ্গে থাকা ৩২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং অপহরণের চেষ্টা চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে 'সাইকো সাব্বির'-কে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার বাকি এজাহারভুক্ত আসামি জাহিন সিংহ, রেদোয়ান হাসান এবং সাদ্দাম হোসেন ওরফে টাকলা সাদ্দামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দায়েরের প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত শেষ করে এখনো আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। ফলে বিচারিক কার্যক্রমও শুরু হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ।
বাদীপক্ষের দাবি, মামলার অন্যতম আসামি জামিনে মুক্ত অবস্থায় থাকলেও তদন্তের ধীরগতির কারণে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার নিষ্পত্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।