
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই রাশেদের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে আশুলিয়ায় একটি বড় মাদকের চালান আসার তথ্য এসআই রাশেদকে জানানো হয়। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দেন এবং সাদা পোশাকে একটি টিম প্রস্তুত করছেন বলেও জানান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সারাদিন পার হলেও তিনি কোনো কার্যকর অভিযান পরিচালনা করেননি। এদিকে, ওই সময়জুড়ে এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি চলতে থাকে বলে দাবি স্থানীয়দের।
রাতের দিকে তিনি তথ্যদাতা ও সংবাদকর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে বলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে নিজেও পৌঁছাবেন বলে জানান। তার কথামতো তারা ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নিলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এসআই রাশেদ জানান, “আজকে কাজ হবে” এবং “গাড়ি আর জনবল পাইলে আরও বেশি কাজ হবে”। অর্থাৎ, পর্যাপ্ত যানবাহন ও জনবলের অভাবের কারণে অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে, তথ্যদাতা ও সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, যদি জনবল বা গাড়ির সংকট থাকে, তাহলে শুরুতেই তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত ছিল। বরং তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখার কারণে তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
সংবাদকর্মীর সাথে কথোপকথনের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, তারা এসআই রাশেদকে প্রশ্ন করেন, তার কথামতো ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার সময় যদি কোনো হামলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো, তাহলে এর দায় কে নিত। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, শুরুতেই অপারগতা জানালে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, এসআই রাশেদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।