
ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের একটি দল এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি ও দেনদরবারের অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে তাকে ‘মাদকসহ গ্রেপ্তার’ দেখানো নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এসআই আরিফের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আশুলিয়ার শ্রমিকদল নেতা সামাদ ভূঁইয়াকে আটক করে। এরপর রাত ২টা পর্যন্ত আশুলিয়ার জামগড়া, নারী ও শিশু হাসপাতাল এলাকা এবং নরসিংহপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলতে থাকে।

সূত্র জানায়, প্রথমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৭ লাখ টাকায় এবং পরে ৫ লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা হয়। পরবর্তীতে অপর একটি পক্ষ দাবি করে, টাকার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এবং তিনি নিরপরাধ হওয়ায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তবে টাকার অংক নিয়ে মতপার্থক্যের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে – যদি সত্যিই তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে কেন বিভিন্ন স্থানে আলোচনা চলেছে এবং কেন তাকে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু সদস্য ও সোর্সের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগও বারবার সামনে আসছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ডিবি পুলিশের কিছু সোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলের স্বার্থে এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য দিতে পারেননি।