
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইলিয়াস শাহী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধারাবাহিক একাধিক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সাধারণ জীবনযাপন, ধর্মীয় অনুশীলন এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
নিজের ফেসবুক আইডিতে করা পোস্টগুলোতে ইলিয়াস শাহী উল্লেখ করেন, তিনি আর কোনো রাজনৈতিক লাইভ বা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না। তার ভাষায়, রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে “উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে” কথা বলতে হয়েছে, যা অনেকের বিরক্তির কারণ হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পারিবারিক একটি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে এবং এ সুযোগে তার বিরোধীরা সক্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি, রাজনীতি থেকে দূরে থাকলে শত্রু কমবে এবং তিনি ধর্মীয় জীবন, পরিবার ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে সময় দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন।
এক পোস্টে তিনি জানান, অতীতে উচ্চশিক্ষা—বিশেষ করে পিএইচডি করার সুযোগ – রাজনীতির কারণে হাতছাড়া হয়েছে, যাকে তিনি জীবনের একটি “ভুল” হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘ডাল-ভাতের জীবন’ বেছে নেওয়ার ঘোষণা
ইলিয়াস শাহী তার পোস্টে সরল জীবনযাপনের কথাও বলেন। “ডাল-ভাতই আমার খাবার”- এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক নেতার সান্নিধ্য বা প্রভাব তার আর প্রয়োজন নেই। সম্মান বজায় রেখেই রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
তবে তার এই ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছে। সমালোচকদের মতে, রাজনীতির কারণে ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বলা হলেও – যেমন মাকে হারানো, ব্যবসা হারানো বা জেল খাটার বিষয় – এসবের দায় পুরোপুরি রাজনীতির ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়া অতীতে লাইভে এসে ভুল ইংরেজি ব্যবহার, দলীয় নেতাদের সঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের তুলনা এবং বিরোধীদের উদ্দেশে কটূক্তি করার কারণে তিনি একাধিকবার আলোচনায় ও সমালোচনায় এসেছেন।
ইলিয়াস শাহী দাবি করেছেন, গত ১৭ বছর ক্ষমতাসীন সরকারের সময়ে তিনি নানা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন – বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের পরও যদি অনিয়ম, চাঁদাবাজি বা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই রাজনীতি কতটা ভিন্ন হলো?
কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, যদি বর্তমান পরিস্থিতিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে অতীত সরকারকেই কি তুলনামূলকভাবে ভালো বলা হবে?
সবশেষে, ইলিয়াস শাহী জানান তিনি এখন পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগ দিতে চান। “ইজ্জত নিয়ে বিদায়” এই বার্তা দিয়ে তিনি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, ইলিয়াস শাহীর এই ঘোষণা যেমন তার ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করছে, তেমনি তার অতীত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে।