
ঢাকার সাভারের আশুলিয়া, জামগড়া ছয়তলা এলাকায় রবিবার বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এক দিনমজুরকে রুমে আটকে রেখে মারধর এবং দুই লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সবুজ, লালমনিরহাট জেলার ফুলগাছ গ্রামের বাসিন্দা, জীবিকার তাগিদে আশুলিয়ায় কাঠমিস্ত্রির একটি দোকানে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীকে দোকানের কক্ষে আটক রাখা হয়, দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়।
ঘটনার শুরুতে আশুলিয়া থানার এসআই রাসেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে না গিয়ে জামগড়া ছয় তলার বাসস্ট্যান্ডে তার গাড়ি থামিয়ে অভিযুক্ত ফার্নিচার ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান রাব্বির সঙ্গে গোপন আলোচনা করেন। এরপর তারা মেহেদী হাসানের ফার্নিচার দোকানে যান, যেখানে ভুক্তভোগীকে মারধর করা হয়েছিল এবং অপহরণকারীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই বৈঠকের পর থেকে এসআই রাসেলের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, সংবাদকর্মীদেরকে তথ্য প্রদানে তিনি সহযোগিতা করেননি এবং এমনকি অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সহায়তা করেছেন। এই ঘটনা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীকে পরে উদ্ধার করা হয় এবং ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনা সম্পূর্ণ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই ঘটনায় পুলিশি দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ জনগণ মনে করছেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার যদি এমন আচরণ হয়, তবে তা শুধু এক ব্যক্তির নিরাপত্তা নয়, পুরো এলাকার জনগণের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।